সুনামগঞ্জ , রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬ , ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন বিল সংসদে পাস কোথাও ধান কাটার উৎসব, কোথাও জলের নিচে স্বপ্ন মুক্তিপণ নেয়ার পরও অপহরণকারীরা ফেরত দেয়নি মোনায়েমকে, উৎকণ্ঠায় পরিবার টাঙ্গুয়ার হাওরে ৫০ কোটি টাকার প্রকল্প কমিউনিটি ভিত্তিক স্বপ্ন কি টিকে থাকবে? দিস ইজ নট শাহবাগ স্কয়ার, দিস ইজ পার্লামেন্ট : হাসনাত আব্দুল্লাহকে স্পিকার সংসদে ১৩ দিনে ৯১টি বিল পাস শাল্লায় নিরীহ পরিবারের বাসা দখলে ঘোষণা দিয়ে হামলা ত্যাগী নেত্রীদের মূল্যায়ন চায় বিএনপি’র তৃণমূল দালালের ফাঁদে নিঃস্ব অভিবাসন প্রত্যাশীরা, হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা দিরাইয়ে পৃথক সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ২০ ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিল’ পাস শান্তিগঞ্জে ফসল রক্ষা বাঁধ কর্তন পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, মেরামতের নির্দেশ উদ্বোধন হলো ‘মা ও শিশু হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ হাওরে দেশি ধান কাটা শুরু দোয়ারাবাজারে অভিযুক্ত শিক্ষককে কর্মস্থলে ফেরানোর চেষ্টায় শিক্ষার্থীদের বাধা বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষক নিহত উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলেন সাইফুল ইসলাম নিজেদের টাকায় সরকারি সড়ক সংস্কার করলেন এলাকাবাসী ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন-২০২৬’ সংসদে পাস

মানবাধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে

  • আপলোড সময় : ০৬-০২-২০২৬ ১২:৪৭:৪৯ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৬-০২-২০২৬ ১২:৪৭:৪৯ পূর্বাহ্ন
মানবাধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে
হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)-এর প্রকাশিত ১৭ মাসের মানবাধিকার প্রতিবেদন আমাদের সামনে এক গভীর উদ্বেগজনক বাস্তবতা তুলে ধরেছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশে সংস্কার, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, বাস্তব চিত্র তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বরং রাজনৈতিক সহিংসতা, মব হামলা, সাংবাদিক নিপীড়ন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং সীমান্তে প্রাণহানির সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাত্র ১৭ মাসে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতায় ১ হাজার ৪১১টি ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৯৫ জন এবং আহত হয়েছেন ১১ হাজারেরও বেশি মানুষ। এটি কেবল সংখ্যার হিসাব নয়; এটি রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা, রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবক্ষয় এবং আইনের শাসনের ভঙ্গুরতার প্রতিফলন। বিশেষ করে নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা ও মামলার নামে ব্যাপক গ্রেফতার রাজনৈতিক সহনশীলতার চরম অভাবকেই নির্দেশ করে। আরও উদ্বেগজনক হলো মব সহিংসতার উত্থান। চুরি, ধর্মীয় অবমাননা বা আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত গণপিটুনিতে ২৫৯ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই প্রবণতা সামাজিক অস্থিরতাকে দীর্ঘমেয়াদে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে। সাংবাদিকদের ওপর সহিংসতা ও হয়রানির চিত্রও ভয়াবহ। ৪২৭টি ঘটনায় ৮ শতাধিক সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হলে গণতন্ত্র কেবল কাগুজে শব্দে পরিণত হয়। সাইবার আইন ও বিধিনিষেধের অপপ্রয়োগ ভিন্নমত দমনের হাতিয়ারে পরিণত হচ্ছে - যা কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য শুভ লক্ষণ নয়। নারী ও শিশু নির্যাতনের পরিসংখ্যান এই প্রতিবেদনের সবচেয়ে মর্মান্তিক অধ্যায়। ১৭ মাসে ১০১৬ জন ধর্ষণের শিকার, যার অর্ধেকের বেশি শিশু - এটি কেবল সামাজিক ব্যর্থতা নয়, রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা। শিশুর মৃত্যু ও নির্যাতনের সংখ্যা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিয়েই প্রশ্ন তোলে। সীমান্তে হত্যা, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনাগুলো প্রমাণ করে - মানবাধিকার সংকট কোনো একক খাতে সীমাবদ্ধ নেই; এটি বহুমাত্রিক ও গভীর। এই প্রেক্ষাপটে এইচআরএসএস যে সুপারিশ করেছে- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা, রাজনৈতিক সহনশীলতা ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ - তা কেবল সুপারিশ নয়, বরং সময়ের দাবি। রাষ্ট্র যদি এই সংকেত উপেক্ষা করে, তবে মানবাধিকার পরিস্থিতির আরও অবনতি অনিবার্য। মানবাধিকার রক্ষা কোনো পক্ষপাতদুষ্ট ইস্যু নয়; এটি রাষ্ট্রের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ইতিহাস রাষ্ট্রের এই নীরবতাকে ক্ষমা করবে না।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স